মার্চে জাপানে মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় ৬৮৪ খাদ্যপণ্য

দাম বাড়ার প্রবণতা কমেছে ৭০ শতাংশ

জাপানের বাজারে পানীয় ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী মার্চে দেশটিতে মাত্র ৬৮৪টি পণ্যের দাম বাড়বে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭০ শতাংশ কম। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় জাপানে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার গতি ধীর হয়ে আসছে বলে জানিয়েছে টেইকোকু ডেটাব্যাংক লিমিটেড। খবর জাপান টুডে।

সংস্থাটির গবেষণা বলছে, টানা তৃতীয় মাস ধরে জাপানে পানীয় ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হার নিম্নমুখী। প্রতিষ্ঠানটির মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জাপানে যে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ঢেউ দেখা দিয়েছিল, তা এখন অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে। তবে মুদ্রাবাজারে জাপানি ইয়েনের অব্যাহত দরপতনের ফলে আমদানীকৃত পণ্যের ব্যয় আরো বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে জাপানের আর্থিক সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ জানানো হয়েছে। বিশেষ করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আগামী দুই বছরের জন্য খাদ্য ও পানীয় পণ্যের ওপর থেকে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা সরকারের রাজস্বের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গবেষণা সংস্থাটির প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ‘এখন মূলত দেখার বিষয় হলো ইয়েনের এ দরপতনজনিত ঝুঁকি ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ভাগে পণ্যমূল্যের ওপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।’

পণ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি দাম বাড়ছে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের। এর মধ্যে কাটা রাইস কেক এবং ফ্রোজেন বা হিমায়িত চালজাত পণ্যসহ মোট ৩০৪টি পণ্যের দাম বাড়তে যাচ্ছে। এছাড়া ২২৪টি পানীয়কে মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ কাঁচামালের আকাশচুম্বী দাম। তবে কেবল কাঁচামালই নয়, প্যাকেজিং সামগ্রীর অস্বাভাবিক খরচ এবং শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধিও পণ্যমূল্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে। উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ের এ বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার ওপর গিয়ে পড়ছে।

আরও